বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন
আল হাসান মোবারক
লেখক, সদস্য- আহবায়ক কমিটি
বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন কমিটি
আল-কারাওইন বিশ্ববিদ্যালয় সাড়া পৃথিবীর বুকে গড়ে ওঠা সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। ইউনেস্কো এবং গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুসারে, যা আফ্রিকার মরক্কোর ফেজে অবস্থিত আল-কারাওইন বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়। এটি ৮৫৭-৮৫৯ সালে ফাতিমা আল ফিহরি দ্বারা একটি মসজিদ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে ঐতিহাসিক মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক ও শিক্ষাকেন্দ্র হয়ে ওঠে।
বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন লাইব্রেরিটির অবস্থান আধুনিক তিউনিশিয়ায়। কারওয়্যাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশ ছিল এই লাইব্রেরি। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদ এবং এই লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠা হয় একত্রে, ৮৬৯ সালে।
(সংগৃহীত :নেট ছবি)
জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা বা ইউনেস্কোর ঘোষণা মতে কারওয়্যাইন বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রতিষ্ঠাতাকালঃ ৮৫৯ সালে ফাতিমা আল-ফিহরি নামের মুসলিম এক নারী বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
মধ্যযুগে মুসলিম বিশ্ব ও ইউরোপের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও জ্ঞান বিনিময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণও উল্লেখযোগ্য।
আল-কারাওইয়িন একটি মাদ্রাসা হিসেবে ৮৫৯ সালে ফাতেমা আল-ফিহরি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তিনি মুহাম্মাদ আল-ফিহরি নামে এক ধনী বণিকের কন্যা। আল-ফিহরি পরিবার থেকে গভর্নরেটের রাজধানী কারিওয়ানে হিজরত করেছিলেন । (অতঃপর মসজিদ নাম), তিউনিসিয়া করার ফেস গোড়ার দিকে ৯ম শতাব্দীতে, করিওয়ান থেকে অন্য অভিবাসীকে শহরের পশ্চিম জেলার বসতি স্থাপন করে একটি সম্প্রদায়ের যোগদান করেন। ফাতেমা ও তার বোন মরিয়ম, তারা দুজনই সুশিক্ষিত, তাদের বাবার কাছ থেকে প্রচুর অর্থ উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন। ফাতিমা তার পুরো উত্তরাধিকারটি তার সম্প্রদায়ের উপযোগী একটি মসজিদ নির্মাণে ব্যয় করার শপথ করেছিলেন। সেই সময়, ফেজ শহরটি ইদ্রিসি রাজবংশের রাজধানী ছিল, এটি প্রথম মরোক্কান ইসলামিক রাষ্ট্র হিসাবে বিবেচিত হয়েছিল।
স্থাপিতঃ ৮৫৯ সালে ১১৬৫ বছর আগে
শিক্ষায়তনিক ব্যক্তিবর্গ ১০২৫ (২০১২ সলের তথ্য) জন
প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ ৭০৮ (২০১২ সালের ) জন
শিক্ষার্থী সংখ্যা ৮১২০ (২০১২ সলের তথ্য) )
বিশ্ববিদ্যায়ের টি অবস্থান ফেজ মরক্কো শহুরে এলাকা
শিক্ষার প্রধান ভাষা আরবী ভাষা বিশ্ববিদ্যালয়টি
প্রতিষ্ঠাতা করেন, ফাতিমা আল ফিহরি
পোশাকের রঙ সাদা
এই বিশ্ববিদ্যালয় মুসলিম বিশ্বে নেতৃত্বদানকারী অন্যতম একটি আধ্যাত্মিক ও শিক্ষাবিষয়ক কেন্দ্র। এটি মূলত ছিল ইসলাম শিক্ষাবিষয়ক ধর্মভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়।
মানচিত্রকার মোহাম্মদ আল ইদ্রিসী এখানকার ছাত্র ছিলেন, যার মানচিত্র রেনেসাঁর সময় ইউরোপিয়ানদের গবেষণা করতে সাহায্য করেছিল।
এছাড়াও, কারওয়্যাইন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন আবু আল আব্বাস আল জ্ব্যামী, আবু মাহবুব আল ফাসিসহ বিখ্যাত অনেকে। এর সুনাম বিস্তৃত ছিল শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও। ইউরোপের সংস্কৃতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তথা মুসলিম বিশ্বে অগ্রসর ভূমিকা রাখে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্বের প্রাচীনতম এই বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনো শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে।
কারওয়্যাইনে অন্যান্য বিষয়ের সাথে পড়ানো হতো কুরআন ও ফিকহ, ব্যাকরণ, যুক্তিবিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যা, গণিত, রসায়ন, ইতিহাস, ভূগোল এবং সঙ্গীতবিদ্যা। ১৯৬৩ সাল থেকে কারাওইন বিশ্ববিদ্যালয় মরক্কোর আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত হয়।
বর্তমানে মরক্কোর ফেস নগরীর এই প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো সমানতালে পাঠদান চালু রয়েছে।
তথ্য সংগ্রহঃ গুগুল, উইকিপিডিয়া,